প্রকাশিত: ৩০/০১/২০২২ ১০:২৫ এএম

কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে জাপানের অর্থায়নে নির্মিত কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। এ জন্য একটি আন্তর্জাতিক প্রচারাভিযান শুরু করে তারা বলেছেন, জাপানের উচিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে অর্থায়ন বন্ধ করা। কারণ, এর কার্বন নির্গমন বৈশ্বিক উষ্ণতাকে ত্বরান্বিত করবে এবং নিম্নভূমির বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ঝুঁকিতে ফেলবে। খবর রয়টার্সের।

জলবায়ুকর্মীরা বলেছেন, ২০২১ সালের শেষ নাগাদ বিদেশে ক্ষতিকর কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে অর্থায়ন বন্ধ করার জন্য গত বছরের মে মাসে জাপানসহ জি৭ দেশগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তা সত্ত্বেও জাপানি প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো করপোরেশন, তোশিবা ও আইএইচআই করপোরেশন এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ চলছে।

ফলো করুন-
ভিডিও দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন সমকাল ইউটিউব
পরিবেশকর্মীরা বলছেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থানীয়দের জীবন ও জীবিকাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে এবং বৃহত্তর জলবায়ু সমস্যাকে প্রকট করে তুলেছে। ‘ফ্রাইডেস ফর ফিউচার জাপান’ নামে ছাত্র আন্দোলনের কর্মী কেনতারো ইয়ামামোতো শুক্রবার একটি অনলাইন ইভেন্টে বলেন, ‘এই প্রকল্প বাংলাদেশ এবং এই গ্রহের মানুষের ক্ষতি করছে। প্রকল্পটির ফলে প্রায় ২০ হাজার মানুষ জমি, ঘরবাড়ি এবং কাজের সুযোগ হারাবে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে এবং বিষাক্ত বর্জ্যের কারণে প্রায় ১৪ হাজার মানুষ প্রাণ হারাতে পারে।’

প্রকল্পটির কাজ বন্ধ করার দাবিতে একটি প্রচারাভিযান শুরু করে এই অঞ্চলের পরিবেশবিজ্ঞানীরা বলেছেন, মাতারবাড়ী কেন্দ্র জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বৈশ্বিক প্রচেষ্টা এবং কার্বন নিরপেক্ষ হওয়ার সুমিতোমোর নিজস্ব প্রতিশ্রুতির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। মাইটি আর্থ নামে একটি অ্যাডভোকেসি সংস্থার জাপানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক রজার স্মিথ বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণে নেট-শূন্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অর্থ শেষ মিনিট পর্যন্ত কয়লা পোড়ানো নয়। তবে সুমিতোমোর একজন মুখপাত্র দাবি করেন, প্রকল্পটি চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি বন্ধ করা হবে। ফলে এটি তাদের অঙ্গীকারের বরখেলাপ নয়।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রায় ৮ শতাংশ আসে কয়লা থেকে। বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জীবাশ্ম-জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রের নেতিবাচক পরিণতি কমাতে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গত বছর সরকার ১৮টি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের মধ্যে ১০টি বাতিল করেছে। বাংলাদেশের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কারিগরি শাখা পাওয়ার সেলের প্রধান মোহাম্মদ হোসেন বলেন, মাতারবাড়ী প্রকল্প বন্ধ করার জন্য সরকার জলবায়ুকর্মীদের কাছ থেকে কোনো আবেদন পায়নি। এটি একটি চলমান প্রকল্প এবং এটি বাতিল করার কোনো প্রশ্নই আসে না।

পাঠকের মতামত

উখিয়ার শ্মশানভূমি নিয়ে বিতর্কসরকারি রেকর্ড ও আদালতের নথি সামনে এনে পরিচালনা পরিষদের বক্তব্য

কক্সবাজারের উখিয়া সদরের দারোগা বাজার কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর ও জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের ...

চলে গেলেন ঢাবি-জবি-ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ পরিবারের ৬ জন

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ ...

ভুয়া এনআইডিতে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট, পুলিশ ভেরিফিকেশন ফেরানোর চিন্তা

জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহের পর ওই পরিচয়ে পাসপোর্ট বানাচ্ছেন কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গারা। ...